দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীতে আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শনিবার (৯ মে) মধ্যরাতে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তরা পূর্ব থানার একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হায়দার কবির মিথুনের বয়স ৫৪ বছর। তিনি দক্ষিণখানের উত্তর ফায়দাবাদের বাসিন্দা। সিআইডি জানায়, তিনি ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’ এর ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি উত্তরখান এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর জি-প্লাস-৯ তলা ভবন নির্মাণের কথা বলে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ টাকা। এ প্রলোভনে পড়ে বহু গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর-৪-এর কার্যালয়ে গিয়ে অর্থ বিনিয়োগ করেন।
বাদী ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে এক লাখ টাকা এবং পরে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন। এছাড়া তার এক বন্ধু আরও ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। অর্থ গ্রহণের বিপরীতে কোম্পানি মানি রিসিট ও চেক দিলেও পরে জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্তরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থ্রি-স্টার হোটেল ও বিভিন্ন মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে গ্রাহকরা জানতে পারেন, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন। পরে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে একটি নোটিশ দেওয়া হয়, যেখানে বলা হয় ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির আর্থিক লেনদেনের দায় তারা নেবে না।
সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তে হায়দার কবির মিথুনের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলা হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ রেখে বিদেশে পালিয়ে যান।
তদন্তে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি প্রতারণা মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলা ছাড়াও উত্তরা পূর্ব ও উত্তরা পশ্চিম থানায় একাধিক সিআর মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
গ্রেপ্তার হায়দার কবির মিথুনকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিট। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জে আই